মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি করার সময় বাধা দেওয়ায় মো. ফরিদ (৪৪) নামে এক নৈশপ্রহরীকে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাত দল একটি স্বর্ণের দোকানের সিন্দুক লুট করে নিয়ে গেছে এবং ফরিদের রক্তাক্ত মরদেহ পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাজীগঞ্জে ফেলে যাওয়া হয়।
শুক্রবার (১ মে ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারের ‘নিউ আপন জুয়েলার্স শিল্পালয়ে’ এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার মিজি বাড়ির মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সাদা মাইক্রোবাস যোগে ডাকাত দল বাজারে প্রবেশ করে। তারা দোকানের সার্টারের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা সিন্দুক লুট করে। ডিউটিরত অবস্থায় ফরিদ বিষয়টি দেখে ফেললে ডাকাতরা তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে হত্যা করে রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রূপন শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ডাকাত দল আমার দোকানের তালা ভেঙে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ পুরো সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইমারত হোসেন জানান, সকালে অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কত টাকার মালামাল লুট হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাজীগঞ্জ থেকে ফরিদের মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

