সিরাজুল ইসলাম,কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটসহ স্থায়ী হাটগুলোতে এমন নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় খামারি, ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পশু বিক্রিতে প্রতি ১০০ টাকায় সর্বোচ্চ ২ টাকা টোল আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কমলনগরের হাটগুলোতে ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টরা এই নিয়ম তোয়াক্কা না করে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রসিদ ছাড়াই জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী খামারি নেচার উদ্দিন বলেন, “একটি ছাগল বিক্রিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই প্রতি হাজার টাকায় ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এতে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের। খরচ পোষাতে না পেরে অনেক খামারি পশু বিক্রি না করেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।”
পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোলের পাশাপাশি হাটে প্রশাসনিক নজরদারি ও পশু স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। অনেক হাটে এখনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা বুথ বা কোনো চিকিৎসককে দেখা যায়নি, যা ক্রেতাদের মধ্যে রোগাক্রান্ত পশু কেনার আতঙ্ক তৈরি করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমরা প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম গঠন করেছি। এসব টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি মনিটরিং করবে। অসুস্থ পশু যাতে বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।”
অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে হাজিরহাট পশুর বাজারের ইজারাদার মো. বাবুল বলেন, “আমি সব সময় হাটে উপস্থিত থাকতে পারি না। অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।”
বিষয়টি নিয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাতুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত হাটগুলোতে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঈদের মৌসুমে পশুর হাটে চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কঠোর তদারকি একান্ত জরুরি।

