স্বপন কুমার রায়, খুলনা ব্যুরো প্রতিনিধি:
খুলনার দাকোপে মৎস্য ঘেরে হামলা এবং র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘ভুক্তভোগী দাকোপবাসী’র ব্যানারে প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভকারীরা চালনা বৌমার গাছতলা থেকে মিছিল বের করে ডাক বাংলার মোড়ে এসে সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা মৎস্য ঘেরে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ ও ব্যবসায়ী রাশেদ কামালের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং কটূক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য শেখ শাকিল আহমেদ দিলু এবং পানখালী ইউপি সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোশতাক আহমেদ। সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত অভিযোগ:
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার খোনা গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে ৩৩ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘের দীর্ঘদিন ধরে আকরাম ফকির ও তাঁর সহযোগীরা বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তবে গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাচ্চু ফকির, মুকুন্দ মণ্ডল, রসুল গাজী, আলামিন শেখ ও আব্দুল্লাহ শেখের নেতৃত্বে একটি চক্র ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৬ মে থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার ঘেরে হামলা, ভাঙচুর এবং দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পৃথক দুটি মামলা দায়ের করলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জের ধরে আসামিদের ধরতে গেলে দুর্বৃত্তরা র্যাবের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের মতো ধৃষ্টতা দেখায়, যা নিয়ে আলাদা একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে মৎস্য চাষিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

