মোঃ হারুনুর রশিদ, কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সাচার-বড়দৈল ও নায়েরগাঁও সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়কে ছোট-বড় নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্ভোগের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে সাচার অংশে। পশ্চিম বাজার ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। এছাড়া পাশেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাচার জগন্নাথ মন্দির, যেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। তবে বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং শিক্ষার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয় চালক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা চললেও কার্যকর কোনো সংস্কার করা হচ্ছে না। শুধু সাচার-পাথৈর সড়কই নয়, সাচার উত্তর বাজার থেকে শুরু করে পুরো সড়কটিই চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
সাচার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা ও পথচারীরা জানান, বৃষ্টির দিনে রাস্তার গর্তগুলো পানিতে অদৃশ্য হয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। শিক্ষার পরিবেশ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, সাচার জগন্নাথ মন্দিরের দপ্তর সম্পাদক রণজিৎ সরকার জানান, কিছুদিন আগে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়েছিল। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অনেক ভক্ত চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাই তিনি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের জোর দাবি জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাচার জগন্নাথ মন্দিরের পাশের একটি বিলবোর্ড অনুযায়ী, ২০২১ অর্থবছরে সাচার-বড়দৈল-নায়েরগাঁও সড়কের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংস্কারকাজের জন্য এলজিআরডি কর্তৃক ৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার ৪২৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ভ্যাট ও অন্যান্য খরচ বাদে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪৯ টাকায় কাজ সম্পন্ন হলেও ২০২১-২২ অর্থবছরের পর থেকে এ পর্যন্ত রাস্তাটিতে আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আলীম লিটন বলেন, উপজেলার বেশ কিছু রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং সড়কগুলোর বেহাল দশা সম্পর্কে আমাদের উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। আমরা এই সড়কসহ কচুয়ার বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা তৈরি করে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ অনুমোদন পেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

