মো. মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
টানা দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাত থেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের জেলেরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পরই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নদী ও রুপালি ইলিশকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে উপকূলীয় জনপদে।
সরেজমিন চিত্র:
সরেজমিনে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা নদীতে নামার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা ও ট্রলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকার পর আবারও জীবিকার সন্ধানে নদীতে নামার প্রতীক্ষায় উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবী।
মৎস্য বিভাগের তথ্য:
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন রামগতির প্রায় ২১ হাজার ৫০০ এবং কমলনগরের প্রায় ১১ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলে।
জেলেদের প্রতিক্রিয়া:
লিটন মাঝি ও কালু মাঝির মতো অনেক জেলেই জানান, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে যাননি। তারা এখন মুখিয়ে আছেন মধ্যরাতের জন্য। তবে জেলেদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, প্রকৃত জেলে হওয়া সত্ত্বেও তারা সবাই সরকারি চাল সহায়তা পাননি। এতে অনেক পরিবারকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। ভবিষ্যতে কার্ডধারী সকল জেলের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
রামগতি-কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, “অবরোধ সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মধ্যরাত থেকেই জেলেরা আইনসম্মতভাবে নদীতে নামতে পারবেন।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছরের মতো এবারও ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ নিষেধাজ্ঞা ছিল। সফলভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় জেলেরা পুনরায় মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছেন, যা দেশের মৎস্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

