আমি কবি হতে চাইনি,
চেয়েছিলাম অন্তর আত্নার
কিছু কথা কলমে লিখতে।
ঝরে পড়া আঁখিজলের অভ্যন্তরের কষ্ট
আর থেমে থাকা সুখের অব্যক্ত চাপা কান্নার
প্রচ্ছেদ চেয়েছিলাম কলমে লিখতে।
যে হাসি বিম্বিত হয় কাঁচের দেওয়ালে,
তা থেকে জমাট কান্নাগুলো চুরি করে
রেখে দিতে চেয়েছিলাম কলমের কালিতে।
ডায়রির বুকে লুকিয়ে রাখা গোটা জীবন
খন্ড খন্ড শুভ্র মেঘের মতো,
স্মৃতিতে ভাসা দুঃখ,কিছু গোপন ব্যাথা,
হৃৎপিণ্ডের গভীরের কিছু আর্তনাদ,
সব এক-এক করে অব্যক্ত আলাপন
ডায়রির বুকে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম
আমার বাকরুদ্ধ কলমের কালিতে।
নির্বাক অবলোকনে শুধু বাহিরটাই দেখো
বোবা অশ্রু ঝরে ঝরে হয় যে ক্ষরণ।
শুদ্ধতা ও ভুলের নিক্তিতে মেপে
ভেতরটা দেখনা তোমরা,বুঝোনা তোমরা।
তবে শোনো বলি এক আঁধারের গল্প,
ডায়রির পাতায় সবার অগোচরে লুকিয়ে
থাকা চাপা বেদনার আজ আত্নবলিদান।
পৃথিবীর সমস্ত অন্ধকার জড় হয়ে আছে
আমার ঘরে,খুপটি ঘরে একা একা
কতো সকাল, দুপুর,রাত এলো গেলো।
এ ঘরে রৌদ্দুর পৌছেনি বহুদিন,
জোৎস্না গিলে খাওয়া অন্ধকারের ঠাসা
করুন অনুভূতি নিয়ে দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ।
প্রদীপ জ্বেলেছি কবে ঘরে মনে নেই,
ফুল-পাতা-শাখা স্পর্শের সঞ্চারে
সুখ খুঁজেছি কবে তাও মনে নেই।
স্বপ্নের কোঠিরে হারিয়ে ফেলেছি বিশ্বাস
পরিত্যক্ত স্মৃতির পাতায় সব চাওয়া পাওয়া।
এক নিরব বেদনা কুটেখুঁটে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত
ভাবনায় ডুবে আছে আমার যত সুখ
অবশিষ্ট বেঁচে আছে শুধু মনের মাঝে
আমার “একমুঠো কষ্ট”।

