মোঃ জুয়েল মন্ডল,
নিজস্ব প্রতিবেদক, সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর শিল্প ও বাণিজ্য শহর সৈয়দপুরে তীব্র যানজট নিরসনে প্রধান প্রধান সড়কের প্রবেশমুখে স্থায়ী ডিভাইডার (বিভাজক) স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে (দিনাজপুর রোড) এই স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
পরীক্ষামূলক উদ্যোগের সফলতা
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে যানজট নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলকভাবে ওই পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী ডিভাইডার বসানো হয়েছিল। এতে দেখা যায়, যানবাহনগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে চলাচল করছে। অস্থায়ী ডিভাইডারের এই ইতিবাচক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এখন স্থায়ীভাবে ডিভাইডার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যানজটের কারণ
সৈয়দপুর উত্তর জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর। প্রায় ৩৪.৪২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার সিংহভাগ জমি বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে রেলওয়ের জমিতে যত্রতত্র দোকানপাট, শিল্প ও বসতবাড়ি গড়ে ওঠায় শহরটি পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া:
* পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে আসা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ।
* রাস্তার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়া।
* সড়ক দখল করে ব্যবসায়ীদের অবৈধ পসরা সাজানো।
এই বহুমুখী সমস্যার কারণে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটের কবলে পড়তে হতো, যা নষ্ট করত মূল্যবান কর্মঘণ্টা।
প্রশাসনের ভূমিকা
এর আগে পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরবর্তীতে নীলফামারীর তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ কে এম ওহিদুন্নবীর তদারকিতে এবং ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহফুজার আলমের বাস্তবায়নে অস্থায়ী ডিভাইডারের ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে এই ডিভাইডার স্থাপনের ফলে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন শৃঙ্খলার আওতায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাওয়ায় শহরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। স্থায়ীভাবে এই অবকাঠামো সম্পন্ন হলে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

