মো. আলী সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় সরকারি রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর হতে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ মাঝপথে বন্ধ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালামাল সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ এখন চরমে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এমআরআরআইডিপি (MRRIDP) প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রস্থের এই রাস্তার কাজ শুরু করে চট্টগ্রামের মেসার্স মোহাম্মদ ইউসূফ এন্ড ব্রাদার্স প্রা. লি.। চুক্তিকালীন শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই কাজ চলতি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। স্থানীয়ভাবে কাজটি তদারকি করছে মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজ।
তদারককারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, কাজ শুরুর আগেই রাস্তার উভয় পাশের অবৈধ দখলদারদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। রাস্তার প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ দখলমুক্ত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হলেও পূর্ব আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণ পাড়ায় এসে বিপত্তি বাধে। ওই এলাকার দুলাল মিয়া ওরফে ইসকান্দর ও সেকান্দর রাস্তার জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করে রাখায় রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা জায়গা খালি না করায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান খান এনায়েত, মো. দ্বীন ইসলাম ও নজরুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করেন, সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তাটি দখলমুক্ত করতে দুলাল ও সেকান্দরকে বারবার বলা হলেও তারা টালবাহানা করছেন। এলাকাবাসীর চাপের মুখেও তারা জায়গা ছাড়ছেন না, যার ফলে এক সপ্তাহ আগে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে গেছেন।
অভিযুক্তদের মা মোছা. আছিয়া বেগম বলেন, “ছেলেরা বাড়িতে নেই এবং বর্তমানে হাতে টাকা না থাকায় ঘর ভেঙে রাস্তা খালি করতে পারছি না। আমাদের দুই-চার দিন সময় দিলে টাকার ব্যবস্থা করে ঘর সরিয়ে দেব।”
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়া জানান, রাস্তার সাইট সংক্রান্ত জটিলতা বা জায়গা নিয়ে সমস্যার সমাধান হওয়ামাত্রই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

