ঢাকাবুধবার , ২২ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে একসাথে জন্ম নেওয়া তিন বোনের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :

​একই দিনে জন্ম, একই সাথে বেড়ে ওঠা—আর এবার জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এসএসসি-তেও একসাথে অংশ নিচ্ছেন তিন বোন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের তিন যমজ বোন স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন এখন এলাকার মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

শৈশব থেকে বর্তমান

​২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই তিন বোন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও খেলাধুলায় একে অপরের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। প্রথমে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন এবং পরে আরাজী কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তারা। বর্তমানে তারা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পড়াশোনা ও শখ

​তিনজনই মেধাবী হিসেবে পরিচিত। পড়াশোনায় মনোযোগী এই তিন বোনের প্রিয় বিষয় জীববিজ্ঞান। তবে পছন্দের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতাও আছে—স্বপ্নীল ভালোবাসেন বাংলা সাহিত্য, আর স্বর্ণালীর পছন্দ রসায়ন। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বেশ সক্রিয়। তিনজনই বাংলাদেশ বেতার ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী। অবসর সময়ে তারা উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশন পড়তে এবং দেশাত্মবোধক গান গাইতে পছন্দ করেন।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

​একসাথে বেড়ে উঠলেও জীবনের লক্ষ্য নিয়ে তাদের স্বপ্ন ভিন্ন ভিন্ন:

  • স্বপ্নীল বর্মন: ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশসেবা করতে চান।
  • স্বর্ণালী বর্মন: চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখেন।
  • সেঁজুতি বর্মন: শিক্ষকতা পেশাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গড়তে চান।

মা-বাবার গর্ব

​মা ময়না রানী সেন বলেন, “একসাথে তিন মেয়েকে বড় করা সহজ ছিল না, অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে তাদের ভালোবাসা আর মেধা সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।” বাবা ঠান্ডারাম বর্মন বলেন, “প্রথমে যমজ হবে ভেবেছিলাম, পরে তিন কন্যাসন্তান হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু এখন তাদের সাফল্যে আমি গর্বিত। তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য আমি সাধ্যমতো সবকিছু করতে চাই।”

​বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, “একই ইউনিফর্মে এই তিন বোনকে আলাদা করা মাঝে মাঝে কঠিন হয়ে যেত। তারা পড়াশোনায় বেশ ভালো, আশা করছি তিনজনেই চমৎকার ফলাফল করবে।”

​তিন বোনই এখন পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ভালো ফল করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে তারা সবার দোয়া প্রার্থী।

Don`t copy text!