মোঃ জাকের হোসেন, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অকটেন) বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) হাতিয়ার জাহাজমারা হাই স্কুল মাঠে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিন্ডিকেট নির্মূলে প্রশাসনের উদ্যোগ
ভৌগোলিক কারণে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতি লিটার তেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছিল। এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে উপজেলা প্রশাসন সরাসরি তেল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিতরণ কার্যক্রমের মূল তথ্য:
-
- বরাদ্দ: শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গাড়ি প্রতি ৩ লিটার করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
- মূল্য: কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই সরকার নির্ধারিত প্রকৃত মূল্যে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
- তদারকি: বিতরণ কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নৌবাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
”হাতিয়ার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যারা তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে, তাদের সিন্ডিকেট ভাঙতেই আমাদের এই সরাসরি বিতরণ উদ্যোগ। জনগণের ভোগান্তি কমাতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” — রাসেল ইকবাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও দেশের প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন পর সঠিক দামে জ্বালানি তেল কিনতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, জ্বালানির দাম স্বাভাবিক হওয়ায় পরিবহন খরচ কমবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও স্থিতিশীল থাকবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা থাকলেও সরকার দেশব্যাপী ভর্তুকি দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ন্যায্যমূল্যে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে এবং কালোবাজারি রুখতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।

