গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে ৬ মাসের শিশু সন্তান মাহাদী হাসানকে অপহরণ করে বিক্রির ১৮ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব পরিচিতির সুবাদে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করতে করতে অপহরণ করে নিয়ে যায় জিনা বেগম(২৮) ওরফে লতা বেগম।পরে শিশুটির মা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাচ্ছিলনা।
এই বিষয়ে শিশুটির বাবা ইদ্রিস মণ্ডল বাদী হয়ে জিনা বেগমকে আসামি করে পূবাইল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মঙ্গলবার রাতে।পরে পুলিশ জিনার ভাই ও আত্মীয় স্বজন কে জিজ্ঞেস করলে অপহরণকারীর সন্ধান মিলে। মামলার বাদী মোঃ ইদ্রিস মন্ডল(৫০) জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের রশিদ মণ্ডলের ছেলে বর্তমানে পূবাইল থানার ৪০ নং ওয়ার্ডের করমতলার আমির হোসেনের বাসার ভাড়াটিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযোগ দায়েরের ১৮ ঘন্টার মধ্যেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করতে গিয়ে দেখা যায় ৬ বছরের শিশু মাহাদী হাসানকে বিক্রি করে দিয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টাকায় টঙ্গী পূর্ব থানার আমতলী কেরানী টেকের কতিথ মাদক কারবারি আকলিমা ওরূফে আঁখি(৪০) এর নিকট। উদ্ধার করা শিশু সন্তান মাহাদীকে বুকে ফিরে পেয়ে মা রোকেয়া বেগম আবেগ আপ্লূত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ ফিরে পেয়েছেন রোকেয়া বেগম।
অপহরণকারী ও শিশুটির বিক্রেতা আসামি জিনা বেগম নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে। বর্তমানে পূবাইল থানার ৪০ নং ওয়ার্ডের কুদাব এলাকার ইসমাইল হোসেনের ভাড়াটিয়া অপর আসামি শিশুটির ক্রেতা আঁখি বেগম টঙ্গী পূর্ব থানার আমতলী কেরানীর টেক বেলতলী মাজার এলাকার সুজনের স্ত্রী।
পূবাইল মেট্রোপলিটন থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নারীও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় কোর্টের মাধ্যমে দুজনকেই গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

