অধিকার ডেক্স:
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এবং এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়েছেন আদালত।
এছাড়া দেশে হাম ও জলাতঙ্কের টিকার প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ততা ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর পক্ষে গত ১০ মে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে অন্তত ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু। আবেদনকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে ৫০০-র বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করায় দেশে টিকার সংকট তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিসেফ তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে একাধিকবার সতর্ক করলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধার অভাবে বহু শিশু সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে বলেও রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

