**জাবেদ আহমেদ জীবন , নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):**
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল’-এর চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় একের পর এক দুর্ঘটনার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
### **প্রচারণায় ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়** ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেবা দেবেন’ মর্মে এলাকায় মাইকিং করা হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসার আগেই এমন প্রচারণাকে ‘ধৃষ্টতা’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মাইকিংয়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
### **ভুক্তভোগীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা** হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সেবার নামে অপচিকিৎসার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে:
* **খায়রুল ইসলাম (জিনদপুর):** তিনি জানান, এই হাসপাতাল বহু মানুষের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিয়েছে। হুরুয়া, ইব্রাহিমপুর, বাঙ্গরা ও লাউরফতেহপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখানে এসে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
* **রুবি আক্তার (ভুক্তভোগী):** সিজারের ১০ দিন পর তার সেলাই ছিঁড়ে রক্তপাত শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লায় চিকিৎসা নিতে তার প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
* **সুমা (কাঠালিয়া):** তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় পেটে ‘গজ’ রেখেই সেলাই করে দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে কুমিল্লায় পুনরায় চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন।
* **পুষ্প আক্তার (ফতেহপুর):** ভর্তি হওয়ার পর অদক্ষ লোক দিয়ে চিকিৎসার কারণে তার রক্তপাত বন্ধ হচ্ছিল না। পরে তাকে জরুরি ভিত্তিতে কুমিল্লায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জামাল মেম্বারসহ বিল্লাল হোসেন, শামীম আহমেদ ও মিজানুর রহমানরা জানান, সম্প্রতি এক প্রসূতির মৃত্যুর পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মনে করেন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ রাখা উচিত, যাতে ‘রাকিবা’র মতো আর কাউকে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।
### **প্রশাসনের বক্তব্য** এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) **মাহমুদুল হাসান** বলেন, “বিষয়টি মূলত সিভিল সার্জনের এখতিয়ারাধীন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী সিভিল সার্জন কার্যালয় সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তবে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন **ডা. মো. নোমান মিয়া** জানান, “তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ডাক্তার বা হাসপাতালের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি প্রসূতির পরিবার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেছে, তবে আইনি পদক্ষেপ নিলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হতো। আমরা শর্ত দেব যেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া কোনো চিকিৎসা না দেওয়া হয়।”
### **কর্তৃপক্ষের নীরবতা** অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আহমেদ হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

