জাবেদ আহমেদ জীবন , ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রাকিবা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতির রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
নিহত রাকিবা আক্তার উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শফিকুলের স্ত্রী। তার বাবার নাম মিজান মিয়া।
ঘটনার বিবরণ
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রসব ব্যথা শুরু হলে রাকিবাকে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই রাকিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন রেখে তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করে।
স্বজনদের অভিযোগ
নিহতের মা রেহেনা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
> “আমার মেয়েকে যখন অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল, তখনই আমার সন্দেহ হয়। কাছে গিয়ে দেখি ওর কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তারা মৃত দেহটিই অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দায়মুক্ত হতে চেয়েছিল।”
>
স্বজনরা আরও জানান, রোগীকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সাথে সাথেই হাসপাতালের চিকিৎসক ও সকল স্টাফ পালিয়ে যান। ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে—এমন সন্দেহে উত্তেজিত জনতা হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়।
বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য: নবীনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

