ঢাকাবুধবার , ৬ মে ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নবীনগরে ফেমাস হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর আঙুল হানির অভিযোগ

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
মে ৬, ২০২৬ ৩:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ছলিমগঞ্জে অবস্থিত ‘ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে’ চিকিৎসাসেবায় চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ভুল চিকিৎসার কারণে এক নারী রোগীর আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। এছাড়া আরও একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​ঘটনার বিবরণ

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, থোল্লাকান্দি এলাকার বাসিন্দা মোছাম্মদ মিনা (৫০) অটোরিকশার ধাক্কায় হাতের আঙুলে সামান্য আঘাত পান। চিকিৎসার জন্য তিনি ফেমাস জেনারেল হাসপাতালে গেলে ডা. আতিকুল ইসলাম তার আঙুলে সেলাই করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেলাই শেষ করে চিকিৎসক অন্য রোগী দেখতে চলে গেলে ডা. মো. শওকত আলী প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। এর কিছুদিন পর আঙুলের অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং পচন ধরে। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসকরা পচন ধরা আঙুলটি কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

​অব্যবস্থাপনার পাহাড়

​হাসপাতালটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগীদের দাবি—এক জন রোগী দেখেন, অন্যজন প্রেসক্রিপশন লেখেন এবং অনভিজ্ঞ কেউ সার্জারি করেন। সমন্বয়হীন এই চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

​মিনা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালটির ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে:

  • অ্যাপেন্ডিসাইটিস: এক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে বর্তমানে ঢাকায় ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছেন।
  • কানের চিকিৎসা: জনৈক এক ব্যক্তি কানের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানে পচন ধরে, পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কান কেটে ফেলতে হয়।
  • অন্যান্য: খতনা ও সিজারিয়ান অপারেশনের সময়ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

​অভিযুক্ত ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে ডা. আতিকুল ইসলাম ও ডা. মো. শওকত আলী নামে দুজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। ডা. আতিকুল ইসলাম নিজেকে শিশু ও আবাসিক সার্জন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিলেও গণমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

​অন্যদিকে ডা. মো. শওকত আলী জানান, তিনি কেবল প্রেসক্রিপশন দেন, কোনো সার্জারি করেন না। রোগীর আঙুল হানির বিষয়ে তিনি বলেন, “ইচ্ছে করে কেউ এমনটা করে না। আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। প্রয়োজন হলে তারা আবারও আমাদের কাছে আসতে পারেন।”

​হাসপাতালের মালিক মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, “আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে কাজে মাঝেমধ্যে দু-একটি দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।”

​প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

​হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা সিজারিয়ান অপারেশন, জরায়ুর টিউমার, পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন জটিল অপারেশনের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

​এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা অবগত হয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Don`t copy text!