মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ‘আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে’ ভুল চিকিৎসায় রাকিবা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ১১ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। তবে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
**শালিসি সভার সিদ্ধান্ত**
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় একটি প্রভাবশালী মহলের উপস্থিতিতে শালিসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতি মোঃ খবির উদ্দিন মাস্টার জানান:
* হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির মৃত্যুর জন্য দায়ী করে **১১ লাখ টাকা** জরিমানা করা হয়েছে।
* জরিমানার **৮ লাখ টাকা** মৃত রাকিবার নবজাতক সন্তানের নামে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করে দেওয়া হবে।
* বাকি **৩ লাখ টাকা** প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে সমান ভাগে (দেড় লাখ করে) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তবে রাকিবার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জরিমানার ওই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। শালিসকারী পক্ষ দাবি করেছে, এই অর্থ লেনদেনে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।
**পরিবারের আর্তনাদ**
মর্মান্তিক এই ঘটনায় রাকিবার পরিবার এখনো থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করেনি। রাকিবার বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, বড়লোকদের সাথে লড়ে পারব না। আমার মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না, আল্লাহই তাদের বিচার করবেন।”
রাকিবার মা রেহেনা আক্তার অভিযোগ করেন, ৪ এপ্রিল অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথ্য গোপন করে তড়িঘড়ি করে তাকে অন্যত্র পাঠানোর চেষ্টা করে। গাড়িতে তোলার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন রাকিবা মারা গেছেন।
**তদন্ত বনাম বর্তমান পরিস্থিতি**
৯ এপ্রিল সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা সিভিল সার্জন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালে তদন্ত পরিচালনা করছে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে হাসপাতাল মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কর্মরত কর্মকর্তারাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:**
“তদন্ত কমিটি দু’পক্ষের সাথে কথা বলছে। আমরা সরেজমিনে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।”
**তদন্ত কমিটি**
“তদন্ত চলমান থাকায় এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করব না। তবে প্রসূতির পরিবার যদি আইনি সহায়তা চায়, আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করব।”
**রফিকুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), নবীনগর থানা**
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই হাসপাতাল চালু এবং টাকার বিনিময়ে মৃত্যুর আপসনামা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
**ঘটনার প্রেক্ষাপট:** গত ৪ এপ্রিল মধ্যরাতে প্রসব ব্যথা নিয়ে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন রাকিবা আক্তার। ডা. সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়, যার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

