৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান যখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে ফেলে, তখন সুযোগ নেয় একদল উগ্রবাদী ও সুযোগসন্ধানী চক্র। তারা কখনোই বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনা দেখতে চায় না। এই চক্র সেই সুযোগে নির্বিচারে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায়, ঘরবাড়ি লুটপাট করে, মন্দির ভাঙচুর করে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আঘাত ও নির্যাতন চালায়।
এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে ৭ আগস্ট বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ নামে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠন করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজীব চন্দ্র সাহা, প্রতিনিধি, বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট। প্রতিকা-কে দেওয়া এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় বলেন—
“আমরা জানি না আমরা কতটুকু করতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—আমরা সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি, প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় নামাতে পেরেছি। আমরা দেখেছি, যেভাবে ভয় ও আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল, সেখান থেকে তাদের সাহস জুগিয়েছি। নিজেদের কথা না ভেবে, শুধুমাত্র সংখ্যালঘু স্বার্থ রক্ষার জন্যই ৮ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন—
“৫ আগস্টের ঘটনার পর সংখ্যালঘুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। আমরা দেখেছি, কিভাবে মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছিল। আমাদের এই লড়াই মূলত তাদের থামিয়ে দাঁড় করানোর জন্য, যাতে তারা মাথা উঁচু করে বলতে পারে—আমরা এই দেশের সমান নাগরিক।”
৮ দফা দাবির মূল বিষয়গুলো হলো:
সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা মাইনরিটি মন্ত্রণালয় ও মাইনরিটি সুরক্ষা কমিশন গঠন
সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও পূজার ছুটি নিশ্চিতকরণ
প্রতিটি থানায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা সেল গঠন
সংখ্যালঘুদের উপর হামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল
সংখ্যালঘু পূজা-পার্বণে আইন-শৃঙ্খলা জোরদার
সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত
মন্দির ও আশ্রমের জন্য সরকারি অনুদান বৃদ্ধি
হামলা ও ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান
রাজীব চন্দ্র সাহা বলেন—
“আমাদের এই সংগ্রাম কেবল একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য লড়াই। যতদিন না সংখ্যালঘুরা এই দেশে সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার ফিরে পায়—আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।”
পত্রিকায় মন্তব্য:
৯ আগস্ট পূর্ণ হলো এই আন্দোলনের এক বছর। প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি পেলাম, কি হারালাম? তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই আন্দোলনের মাধ্যমে একবার হলেও ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে নিজেদের অস্তিত্বের কথা উচ্চারণ করেছে।

