ফেনীর ছাগলনাইয়া মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদ’র ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহাদাত হোসেন’র বিরুদ্ধে প্রবাসী ইব্রাহিম চৌধুরীর সাব-কবলা ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর পিতা নুরের নবী মিয়া চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনে জানান, শাহদাত মেম্বার ও তাঁর গংদের বিরুদ্ধে আমাদের সাব-কবলা ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফিরে পেতে মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিনু’র নিকট দারস্থ হই এবং তাঁর বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করি। দায়ের করার পর পরই তিনি তিন দফা সালিসি বৈঠক করলেও বিবাদী শাহদাত মেম্বার গংরা উপস্থিত ছিলনা। গত ১৫ দিন যাবত উভয় পক্ষের সম্মতিতে চেয়ারম্যান শাহজাহান মিনু’র নেতৃত্বে সরকারী সার্ভেয়ার কর্তৃক মাপ পরিমাপ করে যার যার সীমানা নির্ধারণ করে দেন। সীমানা নির্ধারণ করার পর বাঁশের খুঁটি দিয়ে যার যার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু খুঁটি দেওয়ার দুইদিন পর প্রকাশ্য শাহদাত মেম্বার খুঁটি গুলি তুলে পেলে দেয়। ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন মহামায়া ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত এলনাপাথর মৌজায় বাংলাদেশ সরকার হতে নালিশী সম্পত্তির সাবেক দাগ নং ১১৫৯/৪০ ডিসিম জমি বন্দোবস্ত নথি নং ১২৪/৯০-৯১ ইং মূলে ও বিগত ১৮-৭-১৯৯১ ইং তারিখে রেজিঃকৃত ২৭১৫ নং কবুলিয়ত মূলে মালিক দখলদার নুর ইসলাম ও রেজিয়া বেগম। নুর ইসলাম গং মালিক দখলদার থাকা সত্বে সহকারী কমিশনার ভূমি কার্য্যলয় নামজারি জমা খারিজ খতিয়ানের জন্য আবেদন করলে সহকারী কমিশনার ভুমি নামজারি জমা খারিজ নথি নং ৩১০-৯০/৯১ইং মুলে ও ৬-৮-৯১ ইং তারিখের আদেশ মোতাবেক ৩৬৪ নং খতিয়ান সৃজন বাবত এবং ৩৮৫ নং হোল্ডিং খুলিয়া নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করায় অবস্থায় অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ জরিপে নুর ইসলাম ও রেজিয়া বেগমের নামে বিএস চুড়ান্ত ৫৫৪ নং খতিয়ান বিশুদ্ধরুপে প্রস্তুত ও প্রচারিত হয়। সে সুবাধে গত ২৮-৩-২০২২ তারিখে প্রকৃত মালিক হতে রেজিঃকৃত ১৩৯৫ নং সাব কবলায় ইব্রাহিম চৌধুরী জমিটির মালিক হয়।
ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান এমতাবস্থায় ক্রয়কৃত জমিটি দখলে গেলে, স্থানীয় মেম্বার শাহদাত হোসেন সহ তাঁর ক্যাডার বাহিনীরা হুমকি প্রদান করে আসছে সেখানে কাউকে যেতে দেবেনা। প্রয়োজনে রক্তের গঙ্গা বয়ে দেওয়া হবে। আইন কানুন, নিয়মনীতি না মেনে একজন স্থানীয় মেম্বার কিভাবে হুংকার ছুড়ে সেটা আমাদের বোধগম্য নই। মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদ এর কয়েকজন মেম্বার ও একজন বিশেষ লোকের কুপরামর্শ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে তাকে নাচাচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিনু জানান, এবিষয়ে তিনবার সালিসি বৈঠক হলেও শাহদাত মেম্বার গংরা মাত্র একটি সালিসি বৈঠকে উপস্থিত ছিল। দীর্ঘ ১৫ দিন যাবত সকলের উপস্থিতিতে সরকারী সার্ভেয়ার কর্তৃক দলিল পত্র দেখে মাপ পরিমাপ করে যার যার জমি নির্ধারণ করি। এবংকি যার যার জমিতে বাঁশের খুঁটি লাগিয়ে দিই। কিন্তু দুইদিন পর কার ইশারায় শাহদাত মেম্বার বাঁশের খুঁটি গুলি তুলে পেলে দেয় সত্যই এটা আমাকে পীড়া দিয়েছে। কার ইঙ্গিতে সে এগুলি করছে খতিয়ে দেখা হবে। সে খুঁটি পেলে চরম বেয়াদবি করেছে, এবংকি ইউনিয়ন পরিষদ তথা পল্লী আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন।
সালিশি বৈঠকের বোর্ডের অন্যন্য সদস্যরা জানান, সরকারীভাবে খাজনা, খতিয়ান, সাব-কবলা দলিল সব ধরনের কাগজপত্র বৈধতা আছে বলে নিশ্চিত করেন।
ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফখরুল ইসলাম জানান, কারো মালিকানাধীন জমি অন্যায়ভাবে দখল করার চেষ্টা করা হলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে শরান্নপন্ন হওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌমিতা দাশ জানান, এবিষয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনাই। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

