স্বপন কুমার রায়,খুলনা ব্যুরো প্রধান:
খুলনার দাকোপে মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গৃহবধূ তাবাসুম খাতুন পিংকি। রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বেলা ২টায় দাকোপ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তাবাসুম খাতুন পিংকি জানান, তারা বিগত ২০ বছর ধরে খোনা গ্রামে মৎস্য ঘের চাষাবাদ করে আসছেন। গত ২২ মে রাতে স্থানীয় বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে রসুল গাজী, মুকুন্দ মন্ডল, আব্দুল্লাহ শেখ, আলামিন শেখ, তৈবুর সানা, চম্পা সরদার, ইলিয়াজ ফকির, মোকাম সানা, জাফর সরদার, লতিফ শেখ, শাহিন শেখ, পংকজ কবিরাজসহ একদল সন্ত্রাসী তাদের ঘেরের বাসায় হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা মাছসহ প্রায় এক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় জসিম, মুছা ও সাজ্জাদসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন, যাদের দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও গত ১৬ মে আসামিরা অবৈধভাবে ঘের দখলের চেষ্টা চালায়। সে সময় ঘেরের কর্মচারী মহিবুর বয়াতিকে মারধর করে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার মাছ লুট করা হয়। ওই ঘটনায় জমির মালিক আবুল আশরাফের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর শ্বশুর আকরাম ফকির বাদী হয়ে গত ২১ মে দাকোপ থানায় একটি মামলা (নম্বর-৮) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২০ মে পুনরায় ২০ হাজার টাকার মাছ লুট করা হয় এবং ঘের ছেড়ে না দিলে শ্বশুর আকরাম ফকিরের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তাবাসুম খাতুন পিংকি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা ব্যবসায়ী রাশেদ কামালের বিরুদ্ধে ওঠা ভূমিদস্যুতার অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। তারা জানান, রাশেদ কামাল তাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ জমি নিয়েছেন, তার দ্বিগুণ জমি তাদের কিনে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গৃহবধূর স্বামী ও ঘের মালিক আব্দুল্লাহ ফকির ছাড়াও ঝর্ণা বাগচী, কৃষ্ণপদ সানা, মহানন্দ বাগচী, ডলি আক্তার, নাহার বেগম, মহিবুর বয়াতি, কামরুল ফকির, জামান শেখ, মহাসিন ফকির, আকরাম ফকির, কল্পনা মন্ডল, তাপসী বাগচী ও সঞ্জিব মন্ডলসহ স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

