ঢাকারবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহরাস্তিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া, ১৭টি পরিবারের দুর্ভোগ; প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

প্রতিবেদক
admin
জুলাই ১২, ২০২৬ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোসাদ্দেক হোসেন জুয়েল, শাহরাস্তি প্রতিনিধি

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের নরিংপুর নতুন মৃধা বাড়িতে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই বাড়ির ১৭টি পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ সদস্য চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত একটি পথ দিয়ে নতুন মৃধা বাড়ির বাসিন্দারা চলাচল করে আসছিলেন। তবে পুরান মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মুকসুদা বেগম ওই জমি ক্রয়সূত্রে নিজের মালিকানাধীন দাবি করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্বে একবার পথটি উন্মুক্ত করা হলেও প্রায় তিন মাস আগে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় পুনরায় পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর ফলে বাড়ির অসুস্থ রোগী, প্রবীণ নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সকল বাসিন্দার স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ, চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগকারী রশিদা বেগম বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা। জোরপূর্বক কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ায় অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্যও বাইরে নিতে পারছি না। আমরা বিভিন্ন স্থানে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
ভুক্তভোগী মানিক, মোজাম্মেল, সফিক ও কামাল হোসেন জানান, বহু বছরের ব্যবহৃত পথ কেউ ব্যক্তিগতভাবে বন্ধ করতে পারেন না। তাদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বারবার পথটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্যারালাইসিস ও কিডনি অপারেশনসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সদস্যরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্কুলশিক্ষার্থী প্রিয়া আক্তার জানায়, মূল পথ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে গরুর ঘর ও টয়লেটের পাশ দিয়ে কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তির পাশাপাশি পোশাক নষ্ট হচ্ছে।
বাড়ির বাসিন্দা ঝর্ণা আক্তার ও নার্গিস বেগম বলেন, অপারেশনের পর নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছেন না। এমনকি চিকিৎসকরাও দুর্গম পথের কারণে বাড়িতে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় সমস্যা হলে সেখানে যাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারও পক্ষ বা বিপক্ষ নই।”
অন্যদিকে মুকসুদা বেগম দাবি করেন, তিনি ক্রয়সূত্রে জমিটির বৈধ মালিক। তাই নিজের জমিতে বেড়া দেওয়া তার অধিকার। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতিও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পূর্বেও প্রশাসনের উদ্যোগে পথটি উন্মুক্ত করা হয়েছিল। পুনরায় অভিযোগ পাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Don`t copy text!