যীশু সেন, চট্টগ্রাম:-
চট্টগ্রামে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার প্রয়াসে সংগঠন ‘বংশীধ্বনি-চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে বরেণ্য বংশীবাদক উস্তাদ সুলতান আহমদের স্মরণে আলোচনা সভা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) গ্যালারিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সঙ্গীতপ্রেমীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
**আলোচনা সভা**
বংশীধ্বনি-চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. রাজীব বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বংশীবাদক উস্তাদ আজিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন আর্য্য সঙ্গীত সমিতির প্রাক্তন অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি দাশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বংশীধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রশিক্ষক শিল্পী রণধীর দাশ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিটন কুমার ধর।
আলোচনা পর্বে বক্তারা উস্তাদ সুলতান আহমদের সঙ্গীতজীবন ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর নিভৃতচারী সাধনার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, গুণী শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চার ধারাকে টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
**সঙ্গীত পরিবেশনা**
অনুষ্ঠানের সূচনায় বংশীধ্বনির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ত্রিতালে লহড়া পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন নীলাদ্রি মহুরী, অয়ন চৌধুরী, স্বপ্ন বিশ্বাস ও অরিত্র দাশ। হারমোনিয়ামে সহযোগিতা করেন শিল্পী রণধীর দাশ।
দ্বিতীয় পর্বে রাগ ‘মুলতানি’তে একক খেয়াল পরিবেশন করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী রিষু তালুকদার। তবলায় তাঁকে সহযোগিতা করেন অমর্ত্য চক্রবর্তী, তানপুরায় ছিলেন ডা. সৌমিত্র দাশ এবং হারমোনিয়ামে বিজয় দেবনাথ।
এরপর একক বাঁশি পরিবেশন করেন অনন্যা দাশ ও মনীষা ধর। তাঁদের সুরেলা বাদন দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরে বংশীধ্বনির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বাঁশিতে বৃন্দবাদন পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন মনীষা ধর, অনন্যা দাশ, অর্পিতা ভদ্র (প্রাপ্তি), বশিতা ঘোষ, নীলাদ্রি মহুরী, প্রাচুর্য ঘোষ, দীপ্ত চক্রবর্তী, অর্পণ গুপ্ত, চন্দ্র ধর, দীপ্ত দে, প্রসাদ চন্দ্র রায়, শিমুল মজুমদার, জগম্ময় সিকদার ও শোভন চক্রবর্তী। বৃন্দবাদনে তবলায় ছিলেন অমিত চৌধুরী দীপ্ত এবং তানপুরায় অনন্যা দাশ ও অরিত্র দাশ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সঙ্গীতাচার্য সুরেন্দ্র লাল দাশ রচিত অর্কেস্ট্রা রাগ ‘পিলু বারোয়া’ ও রাগ ‘ঝিঁঝিঁট’ পরিবেশন করেন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের মাঝখানে অতিথি ও শিল্পীবৃন্দকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শিল্পী রণধীর দাশ।
উপস্থিত সুধীজনের মতে, এই আয়োজনটি ছিল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মকে এই ধ্রুপদী ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এক সফল প্রয়াস।

