ঢাকাশুক্রবার , ৩ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিস্তার বালুচরে সবুজের জোয়ার: কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে সুন্দরগঞ্জে তরমুজের বাম্পার ফলন

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১০:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন, গাইবান্ধা:

তিস্তার বিস্তীর্ণ বালুচর—যেখানে একসময় ছিল শুধুই ধু-ধু বালির স্তূপ আর অনাবাদি জমি, সেখানে আজ সবুজের সমারোহ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভাটি কাপাসিয়া ও বাদামের চর এলাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে শুরু থেকেই কৃষকদের নিবিড়ভাবে পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম।
সাফল্যের নেপথ্যে আধুনিক প্রযুক্তি:
চরাঞ্চলের বালুময় জমি, পানির সংকট ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশে চাষাবাদ একসময় প্রায় অসম্ভব ছিল। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলামের পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বদলে গেছে এই চিত্র। তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে কৃষকরা গত আশ্বিন মাসে বালুচরে তরমুজের বীজ বপন করেন। তিনি নিজেই মাঠে গিয়ে কৃষকদের ‘মালচিং’ পদ্ধতি এবং ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ বা ফোঁটা ফোঁটা সেচ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেন। ফলে তপ্ত বালুচরেও আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং অল্প পানিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা:
পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে মাঠজুড়ে এখন পাকা তরমুজের সমারোহ। প্রতি বিঘা জমি থেকে খরচ বাদে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা। ভাটি কাপাসিয়া গ্রামের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, “কৃষি কর্মকর্তা স্যার শুরু থেকেই আমাদের পাশে ছিলেন। তাঁর দিকনির্দেশনা না থাকলে আমরা এই সাফল্য পেতাম না।” কৃষক আলী আজগর মন্ডলও একই কথা জানিয়ে বলেন, এই বালুচর এখন তাঁদের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য:
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলের অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ শুরু করি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে যে বালুচরেও সোনা ফলানো সম্ভব, তা আজ প্রমাণিত। আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষককে এই চাষে যুক্ত করার পাশাপাশি পেঁপে ও মরিচ চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের।”
বিপণন ও সম্ভাবনা:
শুধু উৎপাদন নয়, কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য বাজারজাতকরণ বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এই সাফল্য দেখে পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকরাও এখন চরাঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয়দের মতে, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও উপকরণে সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি করলে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব আসবে।
তিস্তার বালুচর আজ আর অনাবাদি মরুভূমি নয়; বরং নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা ও পরিশ্রমী কৃষকদের হাত ধরে তা এখন এক সম্ভাবনাময় সবুজ জনপদ।

Don`t copy text!