মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা জেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেলের জন্য সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের জরুরি ও জনসেবামূলক কার্যক্রম।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গাইবান্ধা সদর উপজেলার আর-রহমান ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেলের জন্য শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেল পর্যন্ত অনেককে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল সরবরাহের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই পাম্প কর্তৃপক্ষ বিতরণ বন্ধ করে দেওয়ায় অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার শিক্ষা ও প্রশাসনিক খাতে। তেলের সন্ধানে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হওয়ায় সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না ভূমি অফিসের কর্মচারীরা। ফলে সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তেল সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সংবাদের প্রয়োজনে দ্রুত চলাচলের জন্য তেলের প্রয়োজন হলেও পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করতে হচ্ছে। এতে জরুরি ঘটনার তাৎক্ষণিক কাভারেজ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে তেল বিতরণে কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নেই। সিরিয়াল অনুযায়ী তেল না দেওয়া এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
* অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ: পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য পৃথক বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
* সমন্বিত বিতরণ: জেলার সব পাম্পে একই সময়ে তেল সরবরাহ চালু করা এবং বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করা।
* প্রশাসনিক তদারকি: লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
গাইবান্ধার সচেতন নাগরিকরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

