নিজস্ব প্রতিনিধি, সংযুক্ত আরব আমিরাত:
ঐতিহ্যের ছোঁয়া এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। প্রবাসের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে শিকড়ের পরিচয় পৌঁছে দিতে এই বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়।
গত ১৯ এপ্রিল (রবিবার) শারজাহর নূর আল হেলাল রেস্টুরেন্ট হলরুমে ‘প্রবাসী সনাতনী ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক আয়োজন ও স্মৃতিচারণ
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে বৈশাখের চিরচেনা গান ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ ও ‘নববর্ষের প্রথম প্রভাতে’ সহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলার গানে মেতে ওঠে উপস্থিত দর্শকরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্নিগ্ধা সরকার তিথি ও রাজীব সাহা।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল শিশু শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা। মিতা হাইতের নির্দেশনায় গানের ছন্দ ও নূপুরের ঝংকারে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়। সংগঠনের সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পীদের একক পরিবেশনাগুলোও ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ উপভোগ্য।
অতিথিবৃন্দের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুবাইস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার। তিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা বিশ্বনাথ দে।
সংগঠনের সভাপতি অজিত রায়, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার এবং অর্থ সম্পাদক কার্তিক সাহা উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারা ভবিষ্যতে প্রবাসের মাটিতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যবস্থাপনা ও আপ্যায়ন
পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিমুল নাথ এবং মিডিয়া সেক্রেটারি সঞ্জয় সরকার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ভুড়িভোজ। সরিষা ইলিশ ও হরেক রকমের দেশি ভর্তাসহ বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন প্রবাসীদের মাঝে এক চিলতে বাংলাদেশ ফুটিয়ে তোলে।
প্রবাসে কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে এমন আয়োজন বাঙালি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

