নওগাঁ প্রতিনিধি | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুর-বদলগাছী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অপকর্মে আলোচিত ‘রকি বাহিনী’র প্রধান এবং সাবেক এমপির ছেলে সাকলাইন মাহমুদ রকিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আলোচিত বালু ব্যবসায়ী হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন হত্যাচেষ্টা মামলায় সাকলাইন মাহমুদ রকি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা না-মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার নেপথ্য
মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর নওগাঁ শহরের চকএনায়েত রুবির মোড় এলাকায় হাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় রকি বাহিনীর সদস্যরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর নওগাঁ সদর মডেল থানায় সাবেক এমপি ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, তার দুই ছেলে সাকলাইন মাহমুদ রকি ও ছাগির মাহমুদ রিহানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুন পুলিশ আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রকি বাহিনীর উত্থান ও অপকর্ম
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৪ সালে ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার ছেলে রকির নেতৃত্বে এলাকায় বিশাল এক কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। মহাদেবপুর, বদলগাছী ও জেলা সদরে টেন্ডারবাজি, আত্রাই নদীর বালুমহাল দখল, জমি দখল এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়। জানা গেছে, বালু ব্যবসায়ী হাজী মোয়াজ্জেমের কাছে রকির প্রায় দুই কোটি টাকা দেনা ছিল। পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও দুদকের মামলা
সম্প্রতি সাবেক এমপি সেলিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করেছে। রকির বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান:
”সাবেক এমপি সেলিমের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছে। তাকেসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে আলোচিত এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান কারাগারে যাওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং বিষয়টি এখন পুরো জেলায় ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদক: উজ্জ্বল কুমার, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ।

