ঢাকাসোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

​৪০ বছর ধরে যে বাজারে বিক্রি হয়নি গরুর মাংস; সম্প্রীতি রক্ষায় অনড় স্থানীয়রা

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ৭:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. হামিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনীর-পাঠ বাজার একটি ব্যতিক্রমী স্থান, যেখানে প্রায় চার দশক ধরে গরুর মাংস বিক্রি হয়নি। হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছিল। তবে সম্প্রতি ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সেই প্রথা ভেঙে গরু জবাইয়ের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
**বাজারের ইতিহাস ও সমঝোতা:**
গত রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে ব্যক্তিমালিকানায় বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে এটি ছোট পরিসরে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এখানে স্থায়ী দোকানপাট গড়ে ওঠে। বাজারে একটি কালী মন্দির থাকায় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সম্মতিতে শর্ত ছিল যে, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এখানে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি করা হবে না। বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগসহ সকল সরকারের শাসনামলে এই সামাজিক রীতি মেনেই বাজারটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
**সাম্প্রতিক ঘটনা:**
দীর্ঘদিনের এই অলিখিত নিয়ম ভেঙে সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে একটি গরু জবাই করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা গত ৭ এপ্রিল থানায় এক বৈঠকে বসেন। সেখানে পুনরায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বাজারে আগের মতোই গরু জবাই করা হবে না।
**স্থানীয়দের বক্তব্য:**
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখানে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কখনো বিবাদ হয়নি। ঈদের সময় এক ব্যক্তির খামখেয়ালিপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। আমরা হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে থাকতে চাই।”
বাজারের কালী মন্দির কমিটির সদস্য কাঞ্চন কুমার বর্মন বলেন, “৪০ বছর আগে মুসলিম ভাইদের অনুরোধে এখানে বাজার গড়ে তোলা হয়েছিল। মন্দিরটি বাজারের মাঝখানে থাকায় ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় তারা গরু জবাই না করার অনুরোধ রেখেছিলেন এতকাল।”
অন্যদিকে, গরু জবাই করা আজিজুল হক দাবি করেন, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের চাহিদা রয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
**প্রশাসনের পদক্ষেপ:**
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন, “এলাকাটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় এবং মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় দুই ধর্মের মানুষের সমঝোতায় এতদিন এই ঐতিহ্য টিকে ছিল। এখন একটি মহল সেই সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।”
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল জামান বলেন, “বাজার মালিক ও স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগেই সম্প্রীতি বজায় রাখতে গরুর মাংস বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

Don`t copy text!