উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে দীর্ঘসময় ধরে কুপ্রস্তাব, যৌন হয়রানি ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক ভুক্তভোগী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি পুনরায় একই ধরনের আচরণ শুরু করেন।
সর্বশেষ গত ১০ জুন নবম শ্রেণির ক্লাসে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগীর গতিরোধ করে তাকে হেনস্তা করেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনার জের ধরে ১৭ জুন বিদ্যালয়ের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগী শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানোর চেষ্টা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ জানান, সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

