বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার সোনাতলায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বেদখলে থাকা ২ শতাংশ জমি আদালতের নির্দেশে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশানা টাঙিয়ে এই জমি উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। উদ্ধার হওয়া জমিটি উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের নওদাবগা সরকারপাড়া পূর্বপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওদাবগা মৌজার ২ শতাংশ জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নানের সঙ্গে হামিদা বেওয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও সমাধান না হওয়ায় ২০১৬ সালে হামিদা বেওয়া বাদী হয়ে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০২০ সালে আদালত হামিদা বেওয়াকে জমির প্রকৃত মালিক ঘোষণা করে রায় দেন। তবে বিবাদী আব্দুল হান্নান আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে সেই আপিল মামলাটিও খারিজ হয়ে যায় এবং আদালত হামিদা বেওয়ার পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এরপরই আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় জমিটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শুক্রবার সকালে আদালতের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জমি পরিমাপ করেন এবং লাল নিশানা গেড়ে দিয়ে প্রকৃত মালিকের ওয়ারিশদের দখল বুঝিয়ে দেন। এ সময় উচ্ছেদকৃত জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্ধার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন নায়েব নাজির মনিরুজ্জামান রনি, জারিকারক মো. এনামুল হক এবং আইনজীবী ফেরদৌসী আক্তার রুনা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সোনাতলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিলেন।
জমির মালিক হামিদা বেওয়ার মেয়ে রুনা মাহমুদ বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর পর আইনের সহায়তায় আমরা আমাদের পৈতৃক জমি বুঝে পেয়েছি। আদালতের এমন সিদ্ধান্তে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং আমাদের বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা বহুগুণে বেড়ে গেছে।”
জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আইয়ুব হোসেন বলেন, “আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম মেনে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুরুতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও পরবর্তীতে পুরো পরিবেশ শান্ত ছিল।”

