বগুড়া প্রতিনিধি:
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যখন বিছানায় শয্যাশায়ী, তখন পুরো পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। ঠিক এমন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চকখাগা গ্রামের তরুণ রাজমিস্ত্রি মো. আনোয়ার হোসেন (৩২)। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে ‘হিপ জয়েন্ট এভিএন’ (Avascular Necrosis) নামক এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন তিনি। অর্থের অভাবে বর্তমানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। একদিকে রোগের তীব্র যন্ত্রণা, অন্যদিকে সাড়ে চার বছরের শিশুপুত্র বোরহানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই অসহায় পরিবারটির।
আনোয়ারের বাবা মো. আব্দুল মজিদ একজন সাধারণ কৃষক এবং মা আনিছা বেগম অন্যের বাড়িতে ‘বন্ধু চুলা’ তৈরির কাজ করেন। বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর আনোয়ারের রাজমিস্ত্রির আয়ে কোনোমতে সংসার চলত তাদের। কিন্তু দুই বছর আগে আনোয়ারের এই জটিল রোগ ধরা পড়ার পর থেকেই পরিবারটির উপার্জনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগটি অত্যন্ত জটিল। আনোয়ারকে পুনরায় সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ভারতের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করানো প্রয়োজন। কিন্তু গত দুই বছরের চিকিৎসায় পরিবারটির জমানো শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেছে। একজন কৃষক বাবা আর অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়ের পক্ষে এত বিপুল ব্যয় বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি টাকার অভাবে বর্তমানে তার নিয়মিত ওষুধ কেনাও বন্ধ হয়ে গেছে।
সাড়ে চার বছরের অবুঝ সন্তান বোরহানের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনোয়ার। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি আবার আমার পেশায় ফিরতে চাই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। আমি এভাবে পঙ্গু হয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে চাই না। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা দয়া করে আমার চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।”
একটি তরুণ শ্রমজীবী মানুষকে অকালে পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচাতে এবং সন্তানের মাথার ওপর পিতার ছায়া ধরে রাখতে দেশের সকল দানশীল ব্যক্তি, প্রবাসী ভাই এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন আনোয়ারের অসহায় পরিবার।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর: ০১৭২৮-৪০৮৪১০
মানবিক সেবায় এগিয়ে আসার জন্য এই নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ বা সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

