মো. আতাউর রহমান সরকার, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জ্যৈষ্ঠের আকস্মিক ঝড় ও ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এবং দুপুরে—দুই দফায় আঘাত হানা ঝড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গজরা ইউনিয়নের টরকী কান্দা গ্রামে বসতঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে মো. ফয়েজ (১১) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ের সময় ফয়েজ নিজ ঘরের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় ঘরের পাশে থাকা একটি বড় গাছ উপড়ে টিনের চালের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের চাল দুমড়েমুচড়ে ফয়েজ গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, উপজেলার রায়ের দিয়া গ্রামে রোকেয়া বেগমের একটি পাকা ভবনের ওপর বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে ছাদের দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দুই দফার ঝড়ে পুরো উপজেলায় শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষি জমিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। মাঠের পর মাঠ সবজি ক্ষেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পুটিয়ারপাড় গ্রামের শসা চাষি মো. মুসাকলিম উল্লাহ জানান, ঝড়ে তার শসার জমি পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে নিজস্ব সেচ যন্ত্র (সেলু মেশিন) চালিয়ে জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন তিনি।
প্রকৃতির এই জোড়া আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

