মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
টুংটাং শব্দে মুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বেলানগর গ্রাম। লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, চাপাতি ও চাকুসহ নানাবিধ সামগ্রী। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দম ফেলার ফুসরত নেই স্থানীয় কামারপাড়ার কারিগরদের।
সরেজমিনে বেলানগর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যবাহী পেশাকে এখনো ধরে রেখেছেন উজ্জ্বল দে নামে এক কারিগর। আলাপকালে উজ্জ্বল দে জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি বাবার রেখে যাওয়া এই কর্ম করে আসছেন। তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতো ব্যবসা তেমন ভালো নেই। তারপরও বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে কষ্ট সত্ত্বেও এই পেশায় রয়ে গেছি। তবে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এখন কাজের চাপ বেড়েছে। আমাদের বানানো ছুরি, চাকু, চাপাতি ও দায়ের ভালো অর্ডার মিলছে। আবার অনেকে সরাসরি তৈরি সামগ্রী কিনেও নিচ্ছেন। আমার এখানে আরও ৩-৪ জন কর্মচারী আছেন, সবাইকে নিয়ে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি।”
তীব্র গরমের মধ্যে কাজ করা উজ্জ্বল দের দোকানের কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা কেউ মাসিক বেতনে আবার কেউ দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। বিগত কয়েকদিনের তীব্র গরমে আগুনের পাশে কাজ করতে চরম কষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে এক শ্রমিক বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, দুবেলা দুমুঠো খাবারের তাগিদে কষ্ট হলেও কাজ করতে হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলানগর গ্রামে গত ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে কামারশিল্পীরা কাজ করে আসছেন। বর্তমানে আকার ও আকৃতিভেদে এখানে একটি চাপাতি তৈরি করতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু তৈরিতে ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নিচ্ছেন কারিগররা।

