মোঃ জুয়েল মণ্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (দিনাজপুর) :
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১ নং বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মণ্ডলপাড়া গ্রামবাসীর যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল কয়েকটি নড়বড়ে বাঁশ। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর পানির প্রবল স্রোতে সেই শেষ সম্বলটুকুও এখন নদীগর্ভে বিলীন। আগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে পারাপার হওয়া গেলেও বর্তমানে এলাকাবাসীর সম্বল বলতে শুধুই দীর্ঘশ্বাস আর একটি স্থায়ী সেতুর দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
স্থবির জনজীবন, ভোগান্তির নাম ‘বিকল্প পথ’
বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
* শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি: যাতায়াতের ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ৩-৪ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। এতে সময়ের অপচয় যেমন হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পরিশ্রমে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।
* কৃষিপণ্যে স্থবিরতা: কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে পারছেন না। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক চাষিরা।
* জরুরি চিকিৎসা: মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার শঙ্কায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খড়খড়িয়া নদীর পাড়ে মানুষ এসে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। যাতায়াতের কোনো বিকল্প মাধ্যম না থাকায় কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানি মাড়িয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আগে অন্তত জানতাম একটা বাঁশ আছে, কোনোমতে পার হতে পারতাম। এখন সেই ভরসাটুকুও শেষ। শুধু জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস পাই, কিন্তু সেতুর দেখা নেই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে অনেক জনপ্রতিনিধিই এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন আর কোনো সাময়িক সমাধান বা নড়বড়ে সংস্কার নয়, বরং জনস্বার্থে একটি স্থায়ী ও টেকসই কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
বাঁশ হারিয়েছে, রয়ে গেছে শুধু মানুষের ভোগান্তি। সোনাপুকুর মণ্ডলপাড়ার এই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নই এখন হাজারো মানুষের মুখে মুখে।

