ঢাকাসোমবার , ৫ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফিরে দেখা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি

প্রতিবেদক
majedur
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফিরে দেখা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবদল কর্মী মোঃ আবু হানিফের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।

ঠাকুরগাও সদর উপজেলার ১৩নং গড়েয়া ইউনিয়নের গড়েয়া গোপালপুর দেওয়ানী বাজার নামক স্থানে এক ভয়াবহ সংর্ঘষের ও ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনা স্থলে গিয়ে জানা যায় গত ৫ জানুয়ারি২০১৪ তারিখে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর কয়েকজন আওয়ামী সমর্থক লোক জন ইটালী মুন্সি ও ইসকেন মুন্সির বাড়ী ঘেড়াও করে অগ্নি সংযোগের গুজবের কথা আসে পাশের এলাকায় পরিকল্পিত ভাবে ছড়িয়ে দিলে আসে পাশের লোকজন দেখার জন্য ছুটে যায়। তাদের মধ্যে হানিফ (২২) পিতা আমিনুল ইসলাম ও তার মামা লুৎফর (৪২) ঘটনাটি দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হিন্দু পাড়ার ভিতর দিয়ে রওনা দিলে পথের মধ্যে নিখিল মেম্বারের দুই ছেলে ও তার দলবল তাদের উপর তীর ছুড়ে মারে এবং একটি তীর লুৎফরের চোখে লাগে সে মাটিতে পড়ে যায় এবং তার চোখটি তীরের আঘাতে নষ্ট হয়ে যায়। সকলে মিলে লুৎফরকে এলোপাথারী মারধোর শুরু করে হানিফ তার মামাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় নিখিল মেম্বারের ছেলে পাকু ক্ষিপ্ত হয়ে হাতে থাকা সাবল/বল্লাম দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করে এক পর্যায়ে মাটিতে পরে গেলে হানিফের বুকের উপর বসে সাবল দিয়ে খুঁচে খুঁচে হানিফের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আঘাত করতে থাকে, পরে লোকজন গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। স্থানীয় ডাক্তারের নিকট নিয়ে যায়, ডাক্তার হানিফকে মৃত ঘোষনা করেন এবং লুৎফর কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাও সদর হাসপাতালে ভর্তির পরার্মশ দেন। হানিফের ময়নাতদন্তের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী এসে তার লাশ নিয়ে যায়। ৬ জানুয়ারী বিকাল ৫টায় এতিম হানিফের খালু-মামা ও আতীয় স্বজন দাফন কার্য সর্ম্পন করেন। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা হয়েছে বলে জানাযায়। ঘটনাটি শুনার পরে সাংবাদিকরা ঘটনা স্থলে দেখতে গেলে দেওয়ানী বাজারের ছোটবড় প্রায় ৩৫টি দোকান পাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে সেখানকার এক স্থানীয় হিন্দু ভদ্র লোক জানায়, তিনি বলেন মুসলমানেরা হামার হিন্দুর দোকান গেলা ভাংচুর করিছে, হামেরা প্রাণের ভয়ে অশ্রমত গেইছি। সাংবাদিকরা ৩৫টি দোকানের মালিকের নাম জানতে চাইলে সে ১৬ টি হিন্দু ১৯টি মুসলমানের নাম বলে। গড়েয়া গোপালপুরে জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সাধারন মানুষের সাথে মত বিনিময় করলে। সাধারন লোকজন তাদের দুঃখ কষ্টের কথা জানান। জেলা প্রশাসক উপজেলার চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী কে দুই পক্ষকে ডেকে বসে,একটি সুষ্ট সমাধান করতে বলেন। এদিকে হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য স্কুলে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছিল। পুলিশ সুপার বলেন স্কুলের ঘরে থেকে আর কতদিন পুলিশ পাহাড়া দিবে এতে কোমল মতি ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ায় বেঘাত হচ্ছে, তাই যত তারাতারি সম্ভব ঘটনা টি সমাধানের কথা বলেন। তিনি উভয় পক্ষকে ডাকলে আওয়ামী সমর্থক লোকজন তাতে রাজি না থাকায় এর কোন সমাধান মেলেনি। পুলিশের ভয়ে বর্তমানে এই এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের কোন পুরুষ লোক দিনে ও রাতে বাসায় থাকতে পারেনা। যারা প্রকৃত ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারাই মাথাউচু করে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেরাচ্ছে। এই গ্রামে কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। হানিফের মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই। তারা দেওয়ানি বাজারের এই ঘটনা সম্পর্কে কোন কিছু জানতোনা। তবে কি প্রকৃত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এত নাটকের আয়োজন। ইতির্পূবে মানবাধিকার সংগঠন থেকে লোকজন আসলে তারা শুধু এক পক্ষের কথা শুনে প্রতিবেদন করে। যৌথবাহিনীর ধরপাকরের ভয়ে অপর পক্ষ তাদের সামনে প্রকৃত ঘটনাটি তুলে ধরতে না পারায় একতরফা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সুযোগে কিছু রাজনীতিক নেতা ঘটনা টি কে রং লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টায় চালায়। তারা উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে আবহমান কাল থেকে চলে আসা উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রিতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে । তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে পুজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে।এলকার স্থানীয় লোকজন ও হানিফের স্ত্রী আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে, যারা হত্যা কান্ডের সাথে জরিত তাদের দৃষ্টান্ত মুলক বিচারের দাবী জানান। কেউযেন অপপ্রচার করে রাজনীতিক ফায়দা লুটার জন্য সমগ্র বাংলাদেশের হিন্দু মুসলমানের সম্প্রদায়িকতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করতে পারে সেই দাবি জানান।

Don`t copy text!