মোঃ মাসুদ রানা,কচুয়াঃ
“সত্যিকারের বন্ধুত্ব জীবনকে করে সুন্দর”—এই শ্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে কচুয়ার ঐতিহ্যবাহী সিংআড্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হলো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান। দীর্ঘদিন পর পরিচিত-অপরিচিত অসংখ্য মুখ একত্রিত হয়ে মিলিত হন স্মৃতি, আবেগ আর বন্ধুত্বের বন্ধনে।
সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূর্ণমিলনী আয়োজন। রঙিন ব্যানার, সাজসজ্জা ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় চত্বর যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। বহু বছর আগের সহপাঠীরা একে অপরকে কাছে পেয়ে স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন—কে কোথায় আছেন, কী করছেন—সে গল্পে জমে ওঠে আড্ডা।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, আলোচনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের আবেগে ছুঁয়ে যায়। দুপুরের পর থেকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন, ভাগাভাগি করেন জীবনের অভিজ্ঞতা। অনেকেই পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে এই পুনর্মিলনীতে অংশগ্রহণ করায় অনুষ্ঠানটি পায় এক পারিবারিক আনন্দঘন রূপ।
আয়োজকরা বলেন,প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিদ্যালয়ে কখনো এমন বৃহৎ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়নি। ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জন্য গর্বের।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে, তা সত্যিই অনন্য।”
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, এই পুনর্মিলনী শুধু একটি আনুষ্ঠানিক মিলন নয়—এটি বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও স্মৃতির এক গভীর বন্ধন। বিদ্যালয়ের ৭০ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হতে পেরে তারা গর্বিত এবং এমন আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান খান কাজল সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আবুল হাসেম, আনিসুর রহমান মুন্সী; সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মাস্টার; কোষাধ্যক্ষ নাসির উল্যাহ সিকদার; আপ্যায়ন সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক; সাংস্কৃতিক সম্পাদক মির্জা আলমগীর; মহিলা সম্পাদক গোলশানারা বেগম; সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান খান; ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা মজুমদার জুয়েলসহ বিপুলসংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর আনন্দে ভর করে সিংআড্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ৭০ বছর পূর্তির পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক অনন্য, হৃদয়ছোঁয়া উৎসবে—যা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মনে রেখে যাবে আজীবন রেশ।

