ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কথা রাখলেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল: জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

​খুলনা প্রতিনিধি :

​খুলনা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া ঐতিহ্যবাহী আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করে নিজের কথা রেখেছেন। তাঁর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে দিঘলিয়া উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

​জানা যায়, খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটী গ্রামের একটি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন জনপদে ১৯৯২ সালে বিশিষ্ট দাতা আলহাজ্ব সারোয়ার খানের আর্থিক অনুদান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ৪ একর ৭১ শতক জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেনহাটী গ্রামটি নীতিকবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, নাট্যকার শচীন সেনগুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্লচন্দ্র সেন, অবিভক্ত ভারতের কৃতি শিক্ষার্থী কুমুদ বন্ধু দাশ এবং আমেরিকা প্রবাসী পরমাণু বিজ্ঞানী সৈয়দ ফজলে রাব্বিসহ ব্রিটিশবিরোধী বহু গুণী ব্যক্তির পদচারণায় ধন্য একটি অঞ্চল।

​কলেজটিতে রয়েছে চারদিক দিয়ে প্রাচীরবেষ্টিত চারতলা বিশিষ্ট আইসিটি ভবন, তিনতলা বিশিষ্ট অনার্স ভবন, দুইতলা বিশিষ্ট বিজ্ঞান ও কারিগরি ভবন, প্রশাসনিক ভবন, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, সুদৃশ্য শহীদ মিনার, মসজিদ ও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। এছাড়া সিঁড়ি বাঁধানো পুকুর, খেলার মাঠ এবং হোস্টেল ভবনের জন্য রয়েছে আলাদা জায়গা। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখানে বিএনসিসি, রোভার-রেঞ্জার ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট চালু রয়েছে। ৩৪ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কলেজে একজন শিক্ষক পিএইচডি ও তিনজন শিক্ষক এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একজন শিক্ষক পিএইচডি গবেষণারত আছেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করা হয়ে আসছে।

​১৯৯৫ সালে যশোর বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক), ২০০০ সালে কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি), ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি (পাস) এবং ২০১০ সালে ৫টি বিষয়ে (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং) অনার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই কলেজটি জন্মলগ্ন থেকেই বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় খুলনা জেলার বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আসছে। এখান থেকে পাস করে বহু শিক্ষার্থী মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন।

​অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, উপজেলার সর্বশ্রেষ্ঠ এবং জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও বিগত আমলে কলেজটি জাতীয়করণের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও তৎকালীন সরকার তা আমলে নেয়নি। পরবর্তীতে খুলনা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বিষয়টি জানতে পেরে কলেজে অনুষ্ঠিত এক সভায় কলেজটি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তা নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি কলেজটি জাতীয়করণের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন।

​আলহাজ্ব সারোয়ার খান কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু করায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলালকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দিঘলিয়াবাসী মনে করেন, এমপি আজিজুল বারী হেলাল কথা দিয়ে কথা রাখতে জানেন এবং এই কলেজটির জাতীয়করণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়াই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

Don`t copy text!