মোঃ হামিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টাস্কফোর্স সদস্যদের (বন্যা স্বেচ্ছাসেবক) মাঝে উদ্ধার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের হোটেল জুমারাহ প্যালেসে ‘সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)’-এর আয়োজনে এই বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সিবিএম ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যান্টিসিপেট, ইনক্লুড, অ্যাক্ট: স্ট্রেংদেনিং কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স ইন কুড়িগ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম ধাপে যাত্রাপুর ইউনিয়নের ২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের হাতে টর্চলাইট, মেগাফোন, গামবুট, লাইফ জ্যাকেট, রেইনকোট, ত্রিপল, ফার্স্ট এইড বক্স, রশি, বাঁশি ও উদ্ধার স্ট্রেচারসহ ১১ ধরনের জরুরি উদ্ধার উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান মণ্ডল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবু আল তারেক আহমেদ, যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা জুলফিকার আলী। এ ছাড়া প্রকল্পের অন্যান্য প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসমৃদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক দল দ্রুত উদ্ধার, অনুসন্ধান, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।
সিডিডি সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোট ৬০ জন টাস্কফোর্স সদস্যকে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ধার ও স্থানান্তর, আগাম সতর্কতা, ফার্স্ট এইড এবং দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়াদান বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল স্বেচ্ছাসেবকের মাঝে প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের উদ্ধার উপকরণ প্যাকেজ বিতরণ করা হবে।
সিডিডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবু আল তারেক আহমেদ বলেন, “প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে যাত্রাপুর ইউনিয়নে বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকেরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

