সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা বালুমহাল-১ ও ২-এর নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের (উত্তর বিভাগ) এডিশনাল ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশ।
শুক্রবার সকালে তিনি যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সদর উপজেলার টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাদুকাটা বালুমহাল-১ ও ২-এর সীমানা নির্ধারণ করে ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল সীমানা লঙ্ঘন করে নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদী ভাঙনের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইজারাদারদের অবশ্যই নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন করতে হবে, এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামীতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌ-পুলিশ সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে এসব অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
যাদুকাটা নদী পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এডিশনাল ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, ‘দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। যাদুকাটার ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয় সচেতনতা এবং সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌ-পুলিশ সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, টুকেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো. রাখাব উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সোনালী খবরের প্রতিনিধি মো. ফরিদ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

