বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা হেষারপাড়া এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. ফিরোজ হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী শিশুর সঙ্গে শ্লীলতাহানির ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন ঘটনাটি অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর সামনে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা কদম আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অভিযুক্তের নিজ পরিবার থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এমন অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত এবং তাকে দ্রুত পুলিশের হাতে সোপর্দ করা প্রয়োজন।”
ভুক্তভোগী শিশুর মা রেহেনা পারভিন বিচার দাবি করে বলেন, “আমি আমার সন্তানের ওপর ঘটে যাওয়া এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য বকুল হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলে তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।
তবে টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বকুল হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর পরিবার আমার কাছে বিচার চেয়েছিল। আমি তাদের বলেছি, গ্রাম পুলিশকে দিতে ৩০০ টাকা খরচ হবে। কিন্তু তারা ২০০ টাকা দিতে চাইলে আমি কোনো টাকা গ্রহণ করিনি।”
এই বিষয়ে শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ জানান, “ঘটনাটি আমরা অবগত আছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

