যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাউজানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোয়েপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সফল কর্ণধার ও প্রধান শিক্ষক তপন কুমার দত্তের অবসর উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) দুপুরে বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর কর্মময় জীবনের নানা দিক নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক রাউজান উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সজল চন্দ্র চন্দ বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষক শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধান নন, তিনি একজন পথপ্রদর্শক, অভিভাবক এবং আদর্শ নির্মাতা। তপন কুমার দত্ত নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে শিক্ষার মান ও শৃঙ্খলাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহস জুগিয়েছেন।”
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহামুনি অ্যাংলো পালি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া, ইয়াছিন নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন কুমার মহাজন এবং রাউজান প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক ইনফো বাংলা ও ডেইলি মর্নিং টুডের সিনিয়র সহ-সম্পাদক যীশু সেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিবানী চক্রবর্তী ও মৌসুমী মুৎসুদ্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিবানী চক্রবর্তী। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন কোয়েপাড়া সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমালিকা সেনগুপ্ত, সিনিয়র শিক্ষক মাকসুদ চৌধুরী, প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান কামালী, প্রাক্তন ছাত্রী অমি চক্রবর্তী, সংবর্ধিত অতিথির সহধর্মিণী সুপ্রিয়া দাশ, কন্যা সুমিষ্টা দত্ত, শিক্ষিকা কাবেরী চক্রবর্তী, রুম্পী চৌধুরী, নিলীমা ভট্টাচার্য, সোমা কানুনগো, মোসাম্মৎ শিউলী খাতুন, অজিত নাথ, শুভার্থী চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ আল হাসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে তপন কুমার দত্ত বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত তপন কুমার দত্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পর্ষদ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসাই তাঁকে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করেছে।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন শিক্ষিকা মৌসুমী মুৎসুদ্দী। সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষিকা রুম্পী চৌধুরী ও ছাত্রী সুইটি চক্রবর্তী এবং নৃত্য পরিবেশন করেন অংকিতা দত্ত। গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

