বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় ‘সেঞ্চুরি মোটেল’-এর একটি কক্ষ থেকে এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোর্শেদা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৭ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। মোর্শেদার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকায়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আটকের পর ওই নারী নিহত বিপুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই তাদের মধ্যে এই সম্পর্ক ছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, ঘটনার দিন বিপুল ওই নারীর সাথেই মোটেলে প্রবেশ করেছিলেন। পুলিশ মোটেলটির সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে।
নিহত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া পালপাড়ার জিতেন্দ্রনাথ পালের ছেলে। তিনি এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে বিপুল চন্দ্র পাল হোটেল সেঞ্চুরির ৬১০ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে কক্ষ ছাড়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা কক্ষের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী জানান, এখন পর্যন্ত বিপুলের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিদর্শক মাহফুজ আলম আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় বিপুলের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কক্ষ থেকে কিছু যৌন উত্তেজক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন সম্ভব হবে।

