বগুড়া প্রতিনিধি :
দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটকে জয় করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমের পাশে দাঁড়িয়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। অদম্য এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফাহিমের হাতে ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু।
সংগ্রামের গল্প ও সাফল্যের স্বীকৃতি
জানা গেছে, ফাহিম এ বছর বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলেও তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। এই অভাবের মধ্যেও ফাহিমের মেধা ও পরিশ্রম তাকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের দুয়ার পর্যন্ত নিয়ে যায়। তবে পড়াশোনার জন্য একটি ল্যাপটপ কেনা তার পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সহযোগিতার বিশেষ উদ্যোগ:
-
- স্থানীয় সহায়তা: ল্যাপটপ কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে তাকে অর্ধেক অর্থ সহায়তা করা হয়।
- শর্ত ও পরিশ্রম: বাকি অর্ধেক অর্থ নিজের পরিশ্রমে (প্রাইভেট টিউশন) জোগাড় করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল তাকে, যা ফাহিম সফলভাবে পূরণ করে তার সংকল্পের প্রমাণ দেয়।
- সরকারি অনুদান: ফাহিমের এই অভাবনীয় সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে শেরপুর উপজেলা প্রশাসন থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
”ফাহিমের এই অদম্য ইচ্ছা এবং মেধা আমাদের সবার জন্য গর্বের। আর্থিক সংকট যেন কোনো মেধাবীর পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন তার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি ফাহিম ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে।” — সাইদুজ্জামান হিমু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অনুপ্রেরণার নাম ফাহিম
ফাহিমের এই সাফল্য স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করলে যে সাফল্য পাওয়া যায়, ফাহিম তার জীবন্ত উদাহরণ। মেধাবী এই শিক্ষার্থী যেন নির্বিঘ্নে তার উচ্চশিক্ষা শেষ করতে পারে, সেজন্য সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

