স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর:
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে কৃষিজমি দখল করে জোরপূর্বক মাছের ঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে হারুন হাওলাদার নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, ফসলি জমি রক্ষায় বাধা দেওয়ায় উল্টো কৃষকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে হয়রানি করা হচ্ছে।
শনিবার (২ মে) ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চালতাতলী চরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হারুন হাওলাদার জেলা যুবলীগের নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, হারুন হাওলাদার বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভেকু মেশিন (খননযন্ত্র) দিয়ে কৃষিজমি কেটে মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে চালতাতলী চরে জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে বড় আকারের ঘের তৈরির উদ্যোগ নেন তিনি। এসময় স্থানীয় কৃষক সুলতান গাজী বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য
ভুক্তভোগী সুলতান গাজী অভিযোগ করে বলেন:
“হারুন হাওলাদার অন্যায়ভাবে আমার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে ঘের কাটছিলেন। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে ফাঁসাতে তিনি এখন চাঁদাবাজির মিথ্যা নাটক সাজিয়েছেন। আমি কোনো টাকা দাবি করিনি, কেবল নিজের জমি রক্ষার চেষ্টা করেছি।”
একই অভিযোগ করেছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গোলদার, কৃষক মুনসুর আহমেদ গোলদার ও জমির মালিক জাহাঙ্গীর তালুকদারসহ আরও অনেকে। তারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে হারুন হাওলাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক সাধারণ কৃষককে উচ্ছেদ করেছেন। বর্তমানেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা
এই দখলদারিত্বের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। জমি হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে এবং অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হারুন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

