জাকের হোসেন
নোয়াখালী হাতিয়া প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইলিশের মৌসুমে জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ায় উপকূলের জেলেদের মধ্যে ফিরেছে আনন্দ ও স্বস্তি। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নেমে ভালো ইলিশ পাওয়ার আশায় নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন জেলেরা ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের জন্য সাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল।
তবে আনন্দের পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে রয়েছে একটি বড় দুশ্চিন্তা। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ও ভারতের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলে বাংলাদেশের জেলেরা যখন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে নামতে পারেন না, তখন ভারতীয় জেলেরা সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি বা জলসীমায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ শিকার করতে পারে। এতে বাংলাদেশের জেলেদের ক্ষতির পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদ ও সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলেদের দাবি, ইলিশ কোনো দেশের সীমানা মেনে চলাচল করে না। তাই ইলিশ সংরক্ষণ ও জেলেদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় আরও সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জলসীমায় বিদেশি মাছ ধরার নৌযান যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সমুদ্রসীমায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলেরা বলেন, ইলিশের প্রাচুর্য তাদের জীবিকার প্রধান ভরসা। সাগরে ইলিশের পরিমাণ বাড়লে যেমন জেলেদের আয় বাড়বে, তেমনি মৎস্য খাতের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। তাই একদিকে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দুই দেশের নিষেধাজ্ঞার সময়সূচি সমন্বয়ের পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জেলেরা ন্যায্যভাবে ইলিশ আহরণ করতে পারবেন এবং দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ও রাজস্ব সুরক্ষিত থাকবে।

