মোঃ জাকের হোসেন
নোয়াখালী, হাতিয়া প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ম্যাকপার্শ্বন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনিয়ম, নৈতিকতাবিরোধী আচরণ, নারীঘটিত অপকর্ম, হাজিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা এবং সহকর্মীদের হুমকির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৮ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে কোন্দলে জড়ানো, অফিসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি, নৈতিকতাহীন আচরণের ছবি মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-হাজিরা খাতা ছিঁড়ে ফেলা, সহকর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে শিক্ষকদের ফোন করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। প্রথম দফায় ১৬ জুন এবং দ্বিতীয় দফায় ২৪ জুন তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সপক্ষে তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩০ জুলাই এক অফিস আদেশে মামুন অর রশিদকে ৩ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার বলেন, “সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদকে বরখাস্তের আদেশ তাঁর সার্ভিস বুকে (চাকরি বই) লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া বরখাস্তের আদেশের একটি অনুলিপি তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অনিয়মের অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

