মোঃ জাকের হোসেন, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। পরিবারের সবাই তখন ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ ঘরের টিনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় সবার। দরজা খুলতেই ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই ঘরের পুরুষ সদস্যদের কুপিয়ে জখম করা হয় এবং নারীদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর আহত পুরুষদের গলায় রশি বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের বস্তাবন্দি করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এক কৃষক।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন আহত কৃষক মো. এরশাদ।
তিনি উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে এরশাদ বলেন, “আমাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গ্রাম পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় আমাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।” এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি দাবি করেন।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক ইউপি সদস্য আজহার উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি আমরা নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে আজহার উদ্দিন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই বর্বরোচিত হামলা চালায়।”
এরশাদ দাবি করেন, হামলাকারীরা শুধু শারীরিক নির্যাতনই করেনি; গভীর রাতে টমটম গাড়ি এনে ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। হামলার সময় পরিবারের শিশুদের কান্না ও আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন জেগে উঠলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।
অতীতের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এর আগে ২০২৩ সালেও আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার আমি পাইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই তারা বারবার এমন নৃশংস হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক এরশাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

