উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ:
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কেটে নিজ মালিকানাধীন স-মিলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর রাস্তার পাশে দুটি বড় ঘোড়ানিম গাছ উপড়ে পড়ে। রবিবার (৩১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে ওই গাছ দুটি কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কেটে আমজাদ হোসেনের মালিকানাধীন স-মিলে নিয়ে রাখা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলো ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছিল, কিন্তু প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে তা কেটে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন প্রথমে গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “আমার ব্যবসায়িক পার্টনার আশরাফ গাছগুলো কিনে স-মিলে এনে রেখেছেন।” এ সময় তিনি সাংবাদিকের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে নওহাটা মোড়ে দেখা করার জন্য বলেন।
তবে আমজাদ হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ আশরাফ আলী বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, “আমজাদ ভাই আমাকে গাছগুলো কেটে নিয়ে আসতে বলেছেন। কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে তা আমি জানি না, তার নির্দেশেই শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো স-মিলে আনা হয়েছে।”
এদিকে ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ইরশাদ হোসেন দাবি করেন, গাছগুলো রাস্তার পাশে পড়ে ছিল এবং তাদের এক সদস্য মিন্টু সম্ভবত সেগুলো বিক্রি করেছেন। তবে বন বিভাগকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ রবিউল আলম বুলেট বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরেস্ট অফিসার মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। সরকারি নিয়ম না মেনে রাস্তার পাশের গাছ কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সম্পদ কাউকে উইল করে দেওয়ারও কোনো অবকাশ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

