যীশু সেন এর প্রতিবেদনে বিস্তারিত :
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের আয়োজনে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামস্থ থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তন (টিআইসি)-এ অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ বেতার ও টিভি শিল্পী, সংগীত গ্রন্থ প্রণেতা, অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার-এর একক নজরুল সংগীতানুষ্ঠান ‘আমারে দিবনা ভুলিতে’। অনুষ্ঠানে শিল্পী রিষু তালুকদার তাঁর সুরেলা কণ্ঠ, আবেগঘন পরিবেশনা এবং নজরুলসংগীতের নান্দনিক উপস্থাপনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। প্রেম, দ্রোহ, ভক্তি, মানবতা ও দেশাত্মবোধের আবহে সাজানো একের পর এক জনপ্রিয় নজরুলসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ। প্রতিটি গানের পর দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানে তিনি পরিবেশন করেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন’, ‘শাওন আসিল ফিরে’, ‘তোমার বীণা তারের গীতি’, ‘হে প্রিয় আমারে দিব না ভুলিতে’, ‘আমায় নহে গো ভালোবাস শুধু’ এবং ‘শাওন রাতে যদি’সহ প্রায় বিশটি জনপ্রিয় নজরুলসংগীত।
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তরুণ ভট্টাচার্য।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাগীশ্বরী নজরুল জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক যীশু সেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সদস্যসচিব প্রকৌশলী রিমন সাহা, ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী, ডা. সৌমিত্র দাশ, শিক্ষক সমীরন সেন,
অধ্যাপক ছন্দা শর্মা, এড. সব্যসাচী আচার্য, শিক্ষক এ্যানি নাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাচিকশিল্পী অদিতি সাহা। বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের পক্ষ থেকে শিল্পী রিষু তালুকদার ও সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উপহার এবং সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের চিরন্তন বাণী নিয়ে নজরুল আজও বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রেরণার উৎস। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত কেবল শিল্পচর্চার বিষয় নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়, চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মাঝে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের অগ্রজ ও অনুজ শিক্ষার্থীরা সমবেত সংগীত ‘জাগো নারী জাগো’ ও ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ পরিবেশন করেন। তবলা সংগতে ছিলেন পলাশ দে ও সৌমেন দাশ।
এছাড়া নাট্য শাস্ত্রম্-এর শিল্পীদের পরিবেশিত শিল্পীর গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। নৃত্যে অংশ নেন হৃদিতা দাশ, জয়ীতা দত্ত, রাইমা দাশ, অর্চিতা দাশ ও রাত্রি ধর।
সমগ্র অনুষ্ঠানে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন কীবোর্ডে সৃজন রায়, তবলায় অমর্ত্য চক্রবর্তী, বাঁশিতে প্রাণেশ ভট্টাচার্য, গিটারে সুচয়ন দে এবং অক্টাপ্যাডে নন্দন নন্দী।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া আহব্বান জানান।নজরুলজয়ন্তীতে শিল্পী রিষু তালুকদারের একক নজরুলসংগীতানুষ্ঠান সুরময়, উৎসবমুখর পরিবেশনায় হৃদয়স্পর্শী সাংস্কৃতিক আবহে মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

