নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:
বই হলো মানবসভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। এটি কেবল শখ বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং জ্ঞান, তথ্য ও মেধার এক অমূল্য রত্ন। মানুষের চিন্তাভাবনা ও মননশীলতার বিকাশে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বইয়ের মাধ্যমে নানা ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ করে চলেছে। সম্প্রতি এক নিবন্ধে এসব কথা তুলে ধরেছেন উত্তর গুজরা বিশ্বাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সমাজকর্মী, সংগীত ও আবৃত্তি শিল্পী সুমি সেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জ্ঞান ও মেধা অর্জনের জন্য বই একটি অনন্য উৎস। প্রতিটি বই নিজের মধ্যে একেকটি ভান্ডার, যেখানে নিহিত রয়েছে ইতিহাস, সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন ও সমাজবিদ্যার মতো বহুমাত্রিক জ্ঞান। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভ করা সম্ভব, যা মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রখর এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
সমাজের সামগ্রিক বিকাশেও বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসনির্ভর বই আমাদের অতীতের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানায়, সাহিত্যচর্চা বিকাশ ঘটায় মনুষ্যত্ব ও সৃজনশীলতার, আর বিজ্ঞানবিষয়ক বই ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য উন্মোচন করে নতুন দিগন্ত। সেই সঙ্গে বই পড়ার মাধ্যমে মেধা আরও শাণিত হয় এবং বৃদ্ধি পায় বিশ্লেষণ ক্ষমতা।
আজকের এই ডিজিটাল যুগে বই পড়ার গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন সুমি সেন। তাঁর মতে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকলেও বইয়ের সঠিক তথ্য এবং গভীরতর বিশ্লেষণ মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে পারে। বই হলো জীবনের প্রকৃত পথপ্রদর্শক, যা আমাদের মানবিক মূল্যবোধের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, বই কেবল জ্ঞান ও মেধার অমূল্য রত্নই নয়, বরং এটি মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, চিন্তাশীল ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক অন্যতম প্রধান উপকরণ।

