যীশু সেন, চট্টগ্রাম:
বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো মনোমুগ্ধকর নৃত্য উৎসব ‘এসো ছন্দের আনন্দযজ্ঞে’। গত ২৯ এপ্রিল (বুধবার) বিকেল ৩টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমির উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি বন্দরনগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করে এবং নৃত্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অতিথি ও গুণীজন সম্মাননা
সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী স্বপন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- সাজেদুল রহমান মুনিম (সিইও, এটিএন মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড)
- রুকসানা আক্তার রিনি (এডুকেশন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, এটিএন বাংলা)
- সৈয়দ মুহম্মদ আয়াজ মাবুদ (কালচারাল অফিসার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চট্টগ্রাম)
- বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী শৈবাল সেন রূপক, মানসী দাশ তালুকদার, শিখা বড়ুয়া, স্বপন দাশ, শুভ্রা সেনগুপ্তা, সঞ্চিতা দত্ত দেবী, প্রমা অবন্তী, ফজল আমিন শাওন, সেতু বিশ্বাস, হিল্লোল দাশ সুমন, প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া, রিয়া দাশ চায়না, মো. কামাল, সূচনা বণিক, সৌরভী নাথ, মো. ফরহাদ ফারুক, সুদীপ দত্ত জেমী, অমিত দাশ এবং সৌমিত্র চক্রবর্তী।
দীর্ঘদিন নৃত্য শিক্ষাদানে অনবদ্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এসব গুণী নৃত্যশিল্পীদের একাডেমির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
বক্তব্য ও তাৎপর্য
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তারা বিশ্ব নৃত্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, নৃত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের মনের ভাব প্রকাশের এক শক্তিশালী ভাষা এবং মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিকে লালন করার অন্যতম হাতিয়ার। সমাজের সম্প্রীতি অটুট রাখতে ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে বেগবান করতে নৃত্যের ভূমিকা অপরিসীম।
সভাপতির বক্তব্যে স্বপন বড়ুয়া বলেন, “নতুন প্রজন্মকে নৃত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে নৃত্যশিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
আবৃত্তি শিল্পী কঙ্কন দাশের সাবলীল সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক পর্বে সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমির শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৫টি নৃত্য পরিবেশন করে। নৃত্যগুরু স্বপন বড়ুয়ার নির্দেশনায় এসব নৃত্যে দেশীয় লোকজ ধারা, শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং সমসাময়িক নৃত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল শৈল্পিক ছোঁয়া, নিখুঁত অভিব্যক্তি ও সংগীতের সুনিপুণ সামঞ্জস্য।
উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল বান্দরবান থেকে আগত শিল্পী একিনু শামাও ও তাঁর দলের পরিবেশনা। তাদের নৃত্যে পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও চট্টগ্রামের প্রায় ২০টি স্বনামধন্য নৃত্য সংগঠনের অংশগ্রহণ উৎসবটিকে একটি বিশাল মিলনমেলায় পরিণত করে।
নৃত্যের এই নান্দনিক প্রদর্শনীতে দর্শকরা বিমোহিত হন এবং করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। সব মিলিয়ে ‘এসো ছন্দের আনন্দযজ্ঞে’ উৎসবটি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

