ঢাকারবিবার , ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রামগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ: নেপথ্যে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মো. মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর:

​লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক বিচ্ছিন্ন করা একটি অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার অভিযোগ উঠেছে। রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯নং ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামের ‘মেসার্স মদিনা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচার’ নামক একটি ইটভাটায়।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়ে বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় ভাটাটির চিমনি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে সম্প্রতি ভাটার মালিক আমির হোসেন ডিপজল বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করেন এবং এ বছর নতুন ট্রান্সফর্মার ও খুঁটি বসিয়ে ভোল্টেজ বৃদ্ধি করেছেন।

​ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ভাটায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স মদিনা ব্রিকসের মালিক গত ৮ বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।

​রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান সোবহান জানান, মদিনা ব্রিকসের মালিকের সংযোগ ও ভোল্টেজ বৃদ্ধিতে মোট ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকায় ট্রান্সফর্মার ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। তবে অফিস কীভাবে এই সংযোগের অনুমতি দিয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

​ভাটায় নতুন অটো মেশিন চালুর সত্যতা নিশ্চিত করে ম্যানেজার স্বপন জানান, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে ভোল্টেজ বৃদ্ধিসহ যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। তবে ব্যয়ের সঠিক অংক তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভাটা মালিক আমির হোসেন ডিপজলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

​রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ ইটভাটায় সংযোগ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা বিধি মেনেই দেওয়ার কথা। বিষয়টি ডিজিএম ভালো বলতে পারবেন।” তবে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ শাহীন রেজা ফরাজি ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান জানান, “মদিনা ব্রিকসের দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লাইসেন্স নেই। গত বছর আমরা অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। এরপরও কীভাবে সংযোগ দেওয়া হলো, তা বিদ্যুৎ বিভাগই বলতে পারবে।”

​লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শফিউল আলম বলেন, “কাগজপত্রে ঘাটতি থাকলে সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। রামগঞ্জের ডিজিএম কীভাবে সংযোগ দিলেন, তা আমি খতিয়ে দেখব।”

​এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Don`t copy text!